বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পরিকল্পিত নগরায়ণই হোক

সোনার দেশ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ন
পরিকল্পিত নগরায়ণই হোক

রাজশাহীর আগামী দিনের উন্নয়নের ভিত্তি


রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বহুদিনের। কিন্তু শুধু স্লোগান কিংবা সভা-সেমিনারে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিকল্পনা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্যে সেই বাস্তবতার কথাই আবার সামনে এসেছে।


পরিকল্পিত নগরায়ণের অন্যতম শর্ত হলো অনুমোদিত নকশা ও বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই রাস্তা, আলো-বাতাস, অগ্নিনিরাপত্তা কিংবা খোলা জায়গার বিষয়টি উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ শুধু নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে না, ভবিষ্যতে তা বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শুধু নোটিশ নয়, কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা জরুরি।


রাজশাহীর আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উন্মুক্ত স্থান, সবুজ এলাকা ও জলাশয় সংরক্ষণ। অপরিকল্পিত আবাসন ও স্থাপনা নির্মাণে এসব জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হলে নগরীর তাপমাত্রা, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। উন্নয়নের নামে নগরীর প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করা কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না।


গ্রিন এনার্জির প্রসারও সময়ের দাবি। সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগানো গেলে বিদ্যুতের চাপ কমার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব। তবে এ উদ্যোগ যেন কেবল সরকারি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বৃহত্তর পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে কার্যকর প্রণোদনা ও সহজ নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। মাস্টার প্ল্যান থাকবে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন না হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ হবে না। ভবন অনুমোদন থেকে নির্মাণ তদারকি—প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রভাবশালী বা সাধারণ—আইন ভঙ্গকারীর পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচনার বিষয় হওয়া উচিত।


রাজশাহীকে সত্যিকার অর্থে ‘গ্রিন ও ক্লিন সিটি’ করতে হলে এখনই কথার চেয়ে কাজে গুরুত্ব দিতে হবে। নগর উন্নয়ন হবে, কিন্তু তা হতে হবে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে। একটি বাসযোগ্য রাজশাহী গড়ার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণই হোক রাজশাহীর আগামী দিনের উন্নয়নের ভিত্তি।